শনিবার ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৮:০৩
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের নিন্দা জানালেন আয়াতুল্লাহ মারভী

ইরানের জ্যেষ্ঠ আলেম আয়াতুল্লাহ জাওয়াদ মারভী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামি বিপ্লবের নেতাকে লক্ষ্য করে দেওয়া “অপমানজনক ও বেপরোয়া মন্তব্যের” তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক অযৌক্তিকতা, হতাশা এবং ইরানের অনন্য অবস্থান বুঝতে ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার পবিত্র শাবান মাসের সূচনার সঙ্গে সমাপতিত দিনে তাঁর উচ্চতর ফিকহ (ইসলামি আইন) ক্লাসের সমাপনী বক্তব্যে আয়াতুল্লাহ মারভী—যিনি ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল অব সেমিনারিজের উপ-মহাসচিব—ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ধর্মীয় জীবনে আত্মশুদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে পবিত্র মাসগুলোতে। তিনি হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, কেবল পরিভাষা ও তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে আত্মিক পরিশুদ্ধি ব্যাহত হয়। ইমাম খোমেনির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, যে ধর্মীয় জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী না করে অহংকারী করে তোলে, তা “শয়তানের অবশিষ্টাংশ ছাড়া কিছু নয়”; প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের নৈতিক ও আত্মিক উৎকর্ষ সাধন করে।

সমসাময়িক রাজনীতির প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ মারভী ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এসব বক্তব্য রাজনৈতিক হতাশা ও ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য নতুন কিছু নয়। এগুলো—সচেতনভাবে বা অচেতনভাবে—আজকের দিনে ইসলামি বিপ্লবের নেতার বৈশ্বিক অবস্থান সম্পর্কে এক ধরনের উপলব্ধি থেকেই আসে।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতার প্রভাব কেবল ইরান বা মুসলিম বিশ্বেই সীমাবদ্ধ নয়।
“বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামী মানুষ, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিবর্গ এমনকি প্রতিপক্ষদের মাঝেও এই স্বীকৃতি রয়েছে যে আজ নিপীড়ক শক্তির বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাতিমার পুত্র (সা.)”—বলেন তিনি।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার শক্তি তুলে ধরে আয়াতুল্লাহ মারভি এক আরব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন, “ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে, কারণ সেখানে ফকিহের শাসনব্যবস্থা রয়েছে; আর আমরা দুর্বল, কারণ আমাদের ওপর অজ্ঞদের কর্তৃত্ব।”

ট্রাম্পের ভাষাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলতে সক্ষম নয়। “এ ধরনের আচরণ ইরানকে আদৌও ভীত করে না এবং বাস্তবতা বদলাতেও পারে না। ইরান ভেনেজুয়েলা নয়, আর ইরানের নেতার অবস্থান এমন নয় যে অপমান বা হুমকি দিয়ে তা ক্ষুণ্ন করা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কিছু “যুক্তিবাদী মানুষ” রয়েছেন, যাদের উচিত ট্রাম্পকে এই বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্বের প্রতি অবমাননা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে আয়াতুল্লাহ মারভী ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আল্লাহর দিকনির্দেশনা ও দৃঢ় নেতৃত্বের অধীনে ইরানের ইসলামি বিপ্লব তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে অটলভাবে এগিয়ে যাবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha